ব্রেকিং নিউজ

ইসলামিক স্কুল একটি সর্বসাধারনের ওয়েবসাইট । এখানে আপনি ইসলামের যাবতীয় তথ্যাদি সঠিক রেফারেন্সে পেয়ে যাবেন । সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত সারা দিনের ফরজ,সুন্নাত সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা এখানে পেয়ে যাবেন

Saturday, June 29, 2019

খাবার খাওয়ার সুন্নাত সম্পর্কে জেনে রাখা জরূরী পর্বঃ 2


খাবার  খাওয়ার সুন্নাত সম্পর্কে জেনে রাখা জরূরী  
  1. মজলিসে উপস্থিত মুরব্বিকে দিয়ে খানা শুরু করানো সুন্নাত।
  2. মাঝে মাঝে (উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ ওয়া লাকাশ শুকর লা উহছি ছানা-আন আলাইকা " )কেননা রসুল (সঃ)  বলেন, বান্দা যখন এক লোকমা খাবার বা পানি গ্রহণ করে এ দুআ পাঠ করে তখন আল্লাহ পাক অত্যন্ত খুশি হন।
  3. রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি হেলান দিয়ে বা হাতে ভর দিয়ে আহার করি না।সুতরাং তোমরাও করো না। ভর দেওয়া তিন ধরনের হতে পারে ঃ
                                    ১) কোনো জিনিসে ঠেস লাগিয়ে খাওয়া
                                    ২) হাটুতে ভর দিয়ে  খাওয়া
                                    ৩) এক হাতে ভর দিয়ে খাওয়া।এই তিন ধরনের ভর দেওয়াই নিন্দবনীয়। 

৪) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম আহার করতেন না।
৫) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতা পরিহিত ব্যাক্তিকে জুতা খুলে আহার করতে নির্দেশ দিতেন।
৬) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহারের পরেই পানি পান করতেন না, বরং কিছুক্ষণ পর পান করতেন।
৭) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহার করেই শুয়ে পড়তে নিষেধ করেছেন।
৮) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আহার শেষ করে এ দুয়া পাঠ করতেন-
উচ্চারণঃ আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযি আত্বয়ামানা ওয়া-ছাক্বনা ওয়াজায়ানালা-মিনাল মুছলিমিন।
৯) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরের খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠতেন না। 
১০) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার মধ্যে ফুঁক দিতেন না বা ঘ্রাণ নিতেন না।
১১) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, দস্তরখানা তুলে নেয়ার পূর্বে আহারকারীরা উঠবে না।
১২) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাত মুছার জন্য কোনো তোয়ালে থাকতো না।তিনি হাতে বা মুখে বা পায়ে ঘষে শুকিয়ে নিতেন।
১৩) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার শেষে উভয় হাত ধৌত করতেন এবং কুলি করতেন।
১৪) রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ খাওয়ার সময় এই দোয়া পড়তেন-
উচ্চারণঃ- আল্লহুম্মা বারিক লানা ফীহী ওয়া ঝিদনা মিনহ।

Friday, June 28, 2019

ছোট্ট বলে।। ছোটদের কবিতা।।মুহাম্মাদ শরিফ


ছোট্ট বলে
মোহাম্মাদ শরিফ


ছোট্ট বলে আমায় কেউ
নেয় না কোনো খেলায়,
ছোট্ট বলে ঘরের মাঝে
আমাকে খুব মানায়।

ছোট্ট বলে নদীর কাছে 
যাইতে পারি না , 
ছোট্ট বলে ছোট্ট ঘরটা
আমার আস্তানা।

ছোট্ট বলে আগুনটা আজ 
দূরে থাকে কত , 
এসব থেকে বঞ্চিত মোরা
যারাই আমার মত।

ছোট্ট বলে খাবার প্লেট
অনেক অনেক ছোট , 
ছোট্ট বলে বন্ধু আমার
বিড়াল ছানা দুটো।

একটু একটু করে শিখি
বইয়ের ছড়াগুলি , 
একটু সামনে গেলে পরে
পেছনে যায় ভুলি।

আব্বু শেখায় আম্মু শেখায় 
শেখাই আমার ভাই, 
এত এত পড়াশোনা
খেলার সময় নাই।

এমন হলে তোমরাই বলো 
কেমন করে হবে, 
কখন আমি বড় হবো? 
খেলতে পারবো কবে ?  

সারাটাদিন ঘরেই থাকি
মায়ের আঁচল তলে, 
আম্মু, আব্বু ভয়ে থাকে
আমি ছোট্ট বলে। 


Sunday, June 16, 2019

রোহিঙ্গা।।বিদ্রোহী কবিতা।। মুহাম্মাদ শরিফ




রোহিঙ্গা
মোহাম্মাদ শরিফ 



বাতাসে নির্যাতনের গন্ধ
ধেয়ে আসছে শ্রাবণের বৃষ্টির মত
নির্মম নিপীড়নে ওরা অন্ধ
অত্যাচারী ব্যাস্ত, উন্মত্ত

অনিন্দ কুটির পুড়ে ছাই
দুর্বলে এত অনাচার কেনো?
মৃত্যু ছাড়া কোনো গত্যান্তর নাই
মরণ ছোবলে ওরা উন্মাদ যেনো।

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে রোহিঙ্গা শিশু
মৃত্যুকে ভালোবেশে নয়
অসহ্য যন্ত্রণা বুকে বেঁধে মা
হারানো সন্তানে শোক নেই,আছে ভয়।

পৃথিবী পরিবার, সদস্য ওরা
ওদের ক্ষতিতে পৃথীবিরই হয়
চাক্ষুষ হলো অমানবিকতা
হলো মানবতার পরাজয়।

ক্ষুধার্ত সেনার পর আছে নাডাল
শত শত নিরীহ শেষ
অসহায়দের নিরাপত্তার নেই ঢাল
কিন্তু আমরাতো আছি বেশ।

মনের মধ্যে জানোয়ার আছে বসে
অন্যের দুঃখে লাগে মজা
বাঁচার জন্য ভাই বোনটি আমার
ঢালছে রক্ত তাজা। 





Saturday, June 15, 2019

সুরমা লাগানোর সুন্নাত তরীকা


                            সুরমা লাগানোর সুন্নাত তরীকা 

রসুলে পাক সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শয়নের পূর্বে অর্থাৎ রাত্রি বেলায় তিনবার সুরমা লাগাতেন। এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রাত্রি বেলায় সুরমা লাগানো সুন্নাত।আর রসুলে পাক সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুরমা ব্যাবহারের তিনটি নিয়ম ছিলো, যার প্রত্যেকটাই সুন্নাত।আমরা এই তিন নিয়মের যেকোনোটিই আমল করতে পারি।

নিয়ম একঃ প্রত্যেক চোখে পৃথক পৃথক তিনবার করে সুরমা দিতে হবে, অর্থাৎ প্রথম ডান চোখে তিনবার, এরপর বাম চোখে তিনবার।ডান চোখে দেওয়ার নিয়ম হলো-প্রথমে ডান দিক থেকে একবার, এরপর বাম দিক থেকে একবার।আবার ডান দিক থেকে একবার। এমনিভাবে বাম চোখে ডান দিক হতে একবার , অতঃপর বাম দিক হতে এক বার, আবার ডান দিক হতে একবার। এটা হচ্ছে প্রথম পদ্ধতি। 

নিয়ম দুইঃ দুই চোখে এক সঙ্গেই সুরমা দিতে হবে, যার প্রত্যেক চোখে গড়ে তিনবার করে দেওয়া হবে। প্রথমে ডান চোখের ডান দিক থেকে একবার। এরপর বাম চোখের ডান দিক হতে একবার। এরপর বাম চোখের ডান দিক হতে একবার।এমনিভাবে যথাক্রমে ডান চোখের বাম দিক হতে একবার। বাম চোখে বাম দিক হতে একবার, আমার ডান চোখে ডান দিক হতে একবার। এমনিভাবে গড়ে তিনবার করে সুরমা দিতে হবে।

নিয়ম তিনঃ রসুলে পাক সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে দুই বার লাগাতেন।

উপরোক্ত তিন পদ্ধতির যেকোনোটি আমল করলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুণ। আমিন। 

Wednesday, June 12, 2019

যেসব সময়ে দোয়া কবুল হয়


যেসব সময়ে দোয়া কবুল হয় 
  1. কদরের রাতে 
  2. আরাফাতের পূর্ণদিন
  3. রমযানের পূর্ণমাস
  4. প্রত্যেক রাত্রির দ্বিতীয়ার্ধ
  5. প্রত্যেক রাত্রির প্রথম তৃতীয়াংশ
  6. প্রত্যেকরাত্রির শেষ তৃতীয়াংশ
  7. প্রত্যেক সেহেরীর সময়
  8. জুমুয়ার রাত্রি
  9. জুমুয়ার পূর্ণদিন তবে জুমুয়ার দিন দুআ কবুল হওয়ার বিশেষ বিশেষ কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যেসময় দুয়া কবুল হওয়া নিশ্চিত-
                                ক) ইমামের খুতবা দেওয়া শুরু হতে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত।
                                 খ) জুমুয়ার দিন আসরের নামায হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। 

যে অবস্থায় দুয়া কবুল হয় 
  1. নামাযের আযান হওয়াকালীন,
  2. আযান ও তাকবীরের মধ্যবর্তী সময়
  3. কোনো ব্যাক্তি বালা মুসিবতের মধ্যে পতিত হয়ে আযানের সময় হাইয়া আলাস সালাহ হাইয়্যা আলাল ফালাহ এর পর দোয়া করলে,
  4. জিহাদের ময়দানে কাতার বন্দি অবস্থায়,
  5. ফজরের নামাযের পর,
  6. নফল নামাযের মধ্যে সিজদারত অবস্থায় আরবিতে দুয়া করলে,
  7. কুরয়ানে কারীম তিলায়ত করার পর ,
  8. কুরয়ানে কারীম খতম করার পর,
  9. যমযমের পানি পান করার সময়,
  10. মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যাক্তির প্রাণ বের হওয়ার সময়,
  11. মোরগের বাগ দেওয়ার সময়,
  12. দ্বীনি মজলিশ চলাকালিন সময়,
  13. ইমামের ওয়ালাদ্দল্লীন বলার সময় মনে মনে দোয়া করলে
  14. এক্বামতের সময় দুয়া করলে
  15. বৃষ্টি বর্ষনের সময় দুয়া করলে
  16. কাবা শরফের প্রতি দৃষ্টি পড়ার সময় দুয়া করলে। 
দুয়া কবুল হওয়ার স্থান সমুহ 

  1. মাতাফের মধ্যে(তাওয়াফ করার জায়গা),
  2. মুলতাযামের নিকট,
  3. মীযাবের নীচে,(বায়তুল্লাহর ছাদের সে নালি যেখান দিয়ে ছাদের পানি পড়ে)
  4. বায়তুল্লাহর ভিতরে,
  5. যমযম কূপের নিকটে,
  6. সাফা পাহাড়ের উপর,
  7. মারওয়া পাহাড়ের উপর,
  8. মাসয়া এর মধ্যে( সাফা-মারওয়ায় দৌড়ানোর জায়গায়)
  9. আরাফাতের ময়দানে,
  10. মুযদালিফার মধ্যে,
  11. মিনার মধ্যে,
  12. মিনায় অবস্থিত তিনটি পাথরের স্তম্ভের নিকট।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল মুমিন মুসলমান কে বেশি বেশি দোয়া করার তৌফিক দান করুন।আমিন।। 

Sunday, June 09, 2019

নামাযের যে সকল আমল নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান


নামাযের যে সকল আমল নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান 
  1. নামাযের মধ্যে দৃষ্টি রাখার দিক দিয়ে নর নারী সকলেই সমান।অর্থাৎ কিয়ামের সময় সিজদার জায়গায় ,রুকুর সময় পায়ের উপর, সিজদার সময় নাকের দিকে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে, এবং সালাম ফিরানোর সময় কাঁধের উপর দৃষ্টি রাখবে।
  2. নামাযে হাই প্রতিরোধের ব্যাপারে নর-নারী সকলেই সমান। অর্থাৎ নামাযের মধ্যে যদি হাই উঠে তবে যথাসম্ভব মুখ বন্দ রেখে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে।আর তা সম্ভব না হলে বাম হাতের তালুর পিঠের উপরিভাগ দ্বারা চাপতে চেষ্টা করবে।তবে দাড়ানোর অবস্থায় ডান হাতের তালুর পিট দ্বারা প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।
  3. কাশি আসলে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে।
  4. যে সব নামাযে কিরাআত আস্তে পড়তে হয় সে সমস্ত নামাযে কিরাআত এতটুকু জোরে পড়বে , যাতে নিজের কাছে হালকা আওয়াজ আসে।চাই সে পুরুষ হোক বা মহিলা।