খাবার খাওয়ার পুর্বে চারটি বিষয় জেনে রাখা জরূরী
- আলাহর হুকুম মনে করে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা ।যেহেতু আল্লাহ পাক হুকুম দিয়েছেন " তোমরা খাও পান কর" সুতরাং ক্ষুদা নিবারনের জন্য নয় আল্লাহর হুকুম জেনে খানা খাওয়া।
- খাদ্যের মাধ্যমে আল্লহ পাক যে শক্তি দান করবেন, তাঁর দ্বারা ইবাদত করার নিয়ত করা।
- খানার কোনো শক্তি নেই এই একীন করে খাওয়া। যদি শক্তি থাকতো তবে একই পরিবারের সদস্যগণ একই খানা ভক্ষণ করছে কিন্তু একজন মোটা-যুবক হচ্ছে আর একজন দুর্বল বা বুড়ো হচ্ছে, এমনটি হতো না।
- খানা খোঁজ খবর নিয়ে খাওয়া। আমি বাসার জন্য মাছ ক্রয় করিনি, বাসায় মাছ দেখছি,কোত্থেকে এলো খোজ নেওয়া। হোটেলে গোশত খেলে। বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করেছে কি না খোঁজ নেওয়া। ইত্যাদি।
খানা খাওয়ার সুন্নত তরীকা
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন পদ্ধতির এক পদ্ধতি তে বসতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেয়ার টেবিলে বসে কখনো আহার করেন নি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহারের জন্য সর্বদা ডান হাত ব্যাবহার করতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক লোক নিয়ে খানা খেতেন।এবং বলতেন যত হাত তত বরকত।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য বস্তুর প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটাই করতেন না, প্রশংসা না করার কারণ এই যে, প্রশংসার দ্বারা লোভ লালসা এসে যায় এবং নিন্দা না করার কারণ এই যে, এটা আল্লাহ পাকের নেয়ামত।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার পূর্বে দুই হাত ধৌত করতেন। বর্তমানে আমরা এক হাত ধৌত করি,এটা সুন্নতের পরিপন্থি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা দস্তর খানা বিছিয়ে খানা খেতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম লোকমা গ্রহণের সময় এ দুআ পড়তেন-উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ওয়াআলা-বারকাতিল্লা-হ, অথবা ইয়া-ওয়াসিআল মাগফিরলি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার শুরুতে বিসমিল্লাহি এবং খানার শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়তেন।(এবং বলতেন, যে নেয়ামতের শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়, সে নেয়ামতের হিসাব নেওয়া হবে না। )
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার শুরুতে দ্যা ভুলে গেলে এ দুআ পাঠ করতেন- উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরহ।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের থেকে খাওয়া শুরু করতেন। খানার মাঝে হাত দেওয়া থেকে বারণ করতেন আর বলতেন খানার মাঝে বরকত থাকে।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং ইরশাদ করতেন আঙ্গুল চেটে খাও,কারণ জানা নেই খানার কোন অংশে বরকত থাকে।আর আঙ্গুল চেটে খাওয়ার তরীকা হচ্ছেঃ প্রথমে মধ্যমা, অতঃপর শাহাদাত, বৃদ্ধা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা চেটে খাওয়া।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তিন আঙ্গুলে কখনো চার আবার কখনো পাঁচ আঙ্গুলে আহার করতেন। পক্ষান্তরে দুই আঙ্গুলে আহার করাকে শয়তানের আহারের পদ্ধতি বলে আক্ষা দিয়েছেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানায় অথবা পেয়ালা থেকে পড়ে যাওয়া খাদ্য তুলে খেতেন এবং বলতেন পড়ে যাওয়া লোকমা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিও না।


No comments:
Post a Comment
Thank You Very Much for commenting.