Tuesday, May 04, 2021
এই ডায়েরিতে সে তার জীবনের নানা উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো লিখে রাখে । এই ডায়েরির কোন এক মাঝামাঝি জায়গায় সাজিদ আমার সাথে প্রথম সাক্ষাতের ঘটনাটিও লিখে রেখেছে । তার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় টি.এস.সি তে ।
সে আমার সম্পর্কে লিখে রেখেছে, –
‘ভ্যাবলা টাইপের একটা ছেলের সাথে সাক্ষাৎ হল আজ । দেখলেই মনে হবে, জগতের কঠিন বিষয়ের কোন কিছুই সে বুঝে না । কথা বলার পর বুঝলাম, এই ছেলে অত্যন্ত বুদ্ধিমান, কিন্তু বোকা । ছেলেটির নাম- আরিফ । ‘
নিচে তারিখ দেওয়া –’০৫/০৩/০৯
এই ডায়েরিতে নানান বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথাও লেখা আছে ।
একবার কানাডার টরেন্টোতে সাজিদ তার বাবার সাথে একটি অফিসিয়াল ট্যুরে গিয়েছিল । সেখানে অনেক সেলেব্রিটির সাথে বিল গেটসও আমন্ত্রিত ছিলেন । বিল গেটস সেখানে দশ মিনিটের জন্য বক্তৃতা রেখেছিলেন । সে ঘটনাটি লেখা । জাফর ইকবালের সাথে সাজিদের একবার বইমেলায় দেখা হয়ে যায় । সেবারের বই মেলায় জাফর স্যারের বই’একটুখানি বিজ্ঞান’ এর দ্বিতীয় কিস্তি’আরো একটুখানি বিজ্ঞান’ প্রকাশিত হয় । সাজিদ জাফর স্যারের বই কিনে বের হওয়ার পথে জাফর স্যারের সাথে তার দেখা হয়ে যায় । সাজিদ স্যারের একটি অটোগ্রাফ নিয়ে, স্যারের কাছে হেসে জানতে চাইলো,’স্যার,’একটুখানি বিজ্ঞান’ পাইলাম । এরপর পাইলাম’আরো একটুখানি বিজ্ঞান’ । এটার পরে’আরো আরো একটুখানি বিজ্ঞান’ কবে পাচ্ছি ?’
সেদিন নাকি জাফর স্যার মিষ্টি হেসে বলেছিলেন, -‘পাবে’
নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই ঠাই পেয়েছে সাজিদের ডাইরিতে ।
সাজিদের ডায়েরির আদ্যোপান্ত আমার পড়া ছিল । কিন্তু, সেমিস্টার ফাইনাল সামনে চলে গত বেশ কিছুদিন তার ডায়েরিটা আমার আর পড়া হয়নি । অবশ্য ডায়েরিটা আমি লুকিয়ে লুকিয়েই পড়ি ।
সেদিন থার্ড সেমিস্টারের শেষ পরিক্ষাটি দিয়ে রুমে আসলাম । এসে দেখি সাজিদ ঘরে নেই । তার টেবিলের উপর তার ডায়েরিটা পড়ে আছে খোলা অবস্থায় ।
ঘর্মাক্ত শরীর । কাঠ ফাটা রোদের মধ্যে ক্যাম্পাস থেকে হেঁটে বাসায় ফিরেছি । এই মুহূর্তে বসে ডায়েরিটা উলটবো, সে শক্তি বাঁ ইচ্ছা কোনটাই নেই । কিন্তু ডায়েরিটা বন্ধ করতে গিয়ে একটি শিরোনাম আমার চোখে আটকে যায় । আমি সাজিদের টেবিলেই বসে পড়ি । লেখাটির শিরোনাম ছিল –
‘ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি –স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত ?’
বেশ লোভনীয় শিরোনাম । শারিরিক ক্লান্ত ভুলেই আমি ঘটনাটির প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম । ঘটনাটি সাজিদের ডায়েরিতে যেভাবে লেখা, ঠিক সেভাবেই আমি পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি, –
‘কয়েকদিন আগে ক্লাসের থার্ড পিরিয়ডের মফিজুর রহমান স্যার এসে আমাকে দাড় করালেন । বললেন, -‘তুমি ভাগ্যে, আই মিন তাকদিরে বিশ্বাস কর ?’
আমি আচমকা অবাক হলাম । আসলে এই আলাপগুলো হল ধর্মীয় আলাপ । মাইক্রোবায়োলজির একজন শিক্ষক যখন ক্লাসে এসে এসব জিজ্ঞস করে, তখন খানিকটা বিব্রতবোধ করাটাই স্বাভাবিক । স্যার আমার উত্তরের আশায় আমার মুখের দিকে চেয়ে আছেন । আমি বললাম,’জি স্যার । এজ এ মুসলিম আমি তকদিরে বিশ্বাস করি । এটি আমার ইমানের মূল সাতটি বিষয়ের মধ্যে একটি । ‘
স্যার বললেন,’তুমি কি বিশ্বাস করো যে, মানুষ জিবনে যা যা করবে তার সবকিছুই তার জম্মের অনেক অনেক বছর আগে তার তাকদিরে লিখে দেওয়া হয়েছে ?’
-‘জি, স্যার’ আমি উত্তর দিলাম ।
–’বলা হয়, স্রষ্টার ইচ্ছা শক্তি ছাড়া গাছের একটি ক্ষুদ্র পাতাও নড়ে না, তাই না ?’
-‘জি, স্যার’
-‘ধরো, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করলাম । এটা কি আমার তকদিরে পূর্বে নির্ধারিত ছিল না ?’
-‘জি, ছিল’
-‘আমার তাকদির যখন লেখা হচ্ছিলো, তখন কি আমি জীবিত ছিলাম ?’
-‘না, ছিলেন না । ‘
-‘আমার তাকদির কে লিখেছে ? বাঁ কার নির্দেশে লিখিত হয়েছে ?’
-‘স্রষ্টার । ‘
-‘তাহলে, সোজা এবং সরল লজিক এটাই বলে –’আজ সকালে যে খুনটি আমি করেছি, সেটি মূলত আমি করি নি । আমি এখানে একটি রোবটমাত্র । আমার ভেতরে একটা প্রোগ্রাম সেট করে দিয়েছেন স্রষ্টা । সেই প্রোগ্রামে লেখা ছিল যে, আজ সকালে আমি একজন লোককে খুন করবো । সুতরাং, আমি ঠিক তাই করেছি, যা আমার স্রষ্টা পূর্বে ঠিক করে রেখেছেন । এতে আমার কোন হাত নেই । ডু ইউ এগ্রি, সাজিদ ?’
-‘কিছুটা’ -আমি উত্তর দিলাম ।
স্যার এবার হাসলেন । হেসে বললেন, -‘আমি জানতাম তুমি কিছুটাই একমত হবে, পুরোটা নয় । এখন তুমি আমাকে নিশ্চয়ই যুক্তি দেখিয়ে বলবে, -স্যার, স্রষ্টা আমাদের একটি স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন । আমরা এটা দিয়ে ভাল মন্দ বিচার করে চলি, রাইট ?’
-‘জি, স্যার’
-‘কিন্তু, সাজিদ, এটা খুব লেইম লজিক, ইউ নো ? ধরো, আমি তোমার হাতে একটি বাজারের লিস্ট দিলাম । লিস্টে যা যা কিনতে হবে, তার সব কিছু লেখা আছে । এখন তুমি বাজার করে ফিরলে । তুমি ঠিক তাই কিনলে যা আমি লিস্টে লিখে দিয়েছে । এবং এটা করতে বাধ্য । ‘
এতটুকু বলে স্যার আমার কাছে জানতে চাইলেন,’বুঝতে পারছ ?’
আমি বললাম,’জি, স্যার’
-‘ভেরি গুড । ধরো, তুমি বাজার করে আসার পর, একজন জিজ্ঞেস করলো, সাজিদ কি কি বাজার করেছ ? তখন আমি উত্তর দিলাম, -‘ওর যা যা খেতে মন চেয়েছে, তা-ই তা-ই কিনেছে’, তাহলে এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা, না ?’
-‘জি, স্যার’
-‘ঠিক স্রষ্টাও এভাবে মিথ্যা বলেছেন । দুই নাম্বারি করেছেন । তিনি অনেক আগে আমাদের তাকদির লিখে তা আমাদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন । এখন আমরা সেটাই করি, যা স্রষ্টা সেখানে লিখে রেখেছেন । আবার, এট দ্যা এন্ড অফ দ্যা ডে, এই কাজের জন্য কেউ জান্নাতে যাচ্ছে, কেউ জাহান্নামে । কিন্তু কেন ? এখানে মানুষের তো কোন হাত নেই । ম্যানুয়ালটা স্রষ্টার তৈরি । আমরা তো জাস্ট পারফর্মার । স্ক্রিপ্ট রাইটার তো স্রষ্টা । স্রষ্টা এর জন্য আমাদের কাউকে জান্নাত, কাউকে জাহান্নাম দিতে পারেন না । যুক্তি তাই বলে, ঠিক ?’
আমি চুপ রইলাম । পুরো ক্লাসে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে তখন । স্যার বললেন,’হ্যাভ ইউ এনি প্রপার লজিক অন দ্যাট ক্রিটিক্যাল কোয়েশ্চান, ডিয়ার ?’
আমি কিছুক্ষন চুপ করে থাকলাম ।
স্যার মুচকি হাসলেন । মনে হল – উনি ধরেই নিয়েছেন যে, উনি সত্যি সত্যিই আমাকে কুপকাত করে দিয়েছেন । বিজয়ের হাসি।
আমাকে যারা চিনে তারা জানে, আমি কখন কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে সময় নিই না। আজকে যেহেতু তার ব্যাতিক্রম ঘটলো, আমার বন্ধুরা আমার দিকে ড্যাব ড্যাব চোখ করে তাকালো । তাদের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিলো, এই সাজিদকে তারা চিনেই না । কোন দিন দেখেই নি ।
আর, ক্লাসে আমার বিরুদ্ধ মতের যারা আছে, তাদের চেহারা তখন মুহূর্তেই উজ্জ্বল বর্ণ ধারন করলো । তারা হয়তো মনে মনে বলতে লাগলো, -‘মৌল্লার দৌড় ওই মসজিদ পর্যন্তই । হা – হা –হা’
আমি মুখ তুলে স্যারের দিকে তাকালাম । মুচকি হাসি স্যারের মুখে তখনও বিরাজমান ।
আমি বললাম,’স্যার, এই ক্লাসে কার সম্পর্কে আপনার কি অভিমত ?’
স্যার ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন । স্যার জিজ্ঞেস করেছেন কি আর আমি বলছি কি ।
স্যার বললেন,’বুঝলাম না । ‘
-‘মানে আমাদের ক্লাসে কার মেধা কি রকম, সে বিষয়ে আপনার কি ধারণা ?’
-‘ভাল ধারণা । ছাত্রদের সম্পর্কে একজন শিক্ষকের তো সবচেয়ে ভাল জ্ঞান থাকে’
আমি বললাম, -‘স্যার আপনি বলুন তো, এই ক্লাশের কারা কারা ফার্স্ট ক্লাস আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাস পাবে ?’
স্যার কিছুটা বিস্মিত হলেন । বললেন ,’আমি তোমাকে অন্য বিষয়ে প্রশ্ন করেছি । তুমি আউট অফ কনট্যাক্সট এ গিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছ, সাজিদ ?’
-‘না, স্যার । আমি কন্টেক্সটেই আছি । আপনি উত্তর দেন । ‘
স্যার বললেন,’এই ক্লাশ থেকে রায়হান, মমতাজ, ফারহানা, সজিব, ওয়ারেশ, ইফতি, সুমন, জাবেদ এবং তুমিও ফার্স্ট ক্লাশ পাবে । আর বাকিরা সেকেন্ড ক্লাশ । ‘
স্যার যাদের নাম বলেছেন তারা সবাই ক্লাশের ব্রিলিয়েন্ট স্টুডেন্ট । সুতরাং, স্যারের অনুমান খুব একটা ভুল না ।
আমি বললাম,’স্যার, আপনি এটা লিখে দিতে পারেন ?’
-‘Why not?’ স্যার বললেন ।
এই বলে তিনি খচখচ করে একটা কাগজের একপাশে যারা ফার্স্ট ক্লাশ পাবে তাদের নাম, অন্য পাশে যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের নাম লিখে আমার হাতে দিলেন ।
আমি বললাম,’স্যার, ধরে নিলাম যে আপনার ভবিষৎবাণী সম্পূর্ণ সত্য হয়েছে । মানে, আপনি ফার্স্ট ক্লাশ পাবে বলে যাদের নাম লিখেছেন, তারা সবাই ফার্স্ট ক্লাশ পেয়েছে, আর যারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে লিখেছেন, তাদের সবাই সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে । ‘
-‘হুম, তো’
-‘এখন স্যার বলন তো, যারা ফার্স্ট ক্লাশ পেয়েছে, আপনি এই কাগজে তাদের নাম লিখেছেন বলেই কি তারা ফাস্ট ক্লাশ পেয়েছে ?’
-‘নাহ তো’
-‘যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে বলে আপনি এই কাগজে লিখেছেন বলেই কি তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে ?’
স্যার বললেন,’একদম না । ‘
-‘তাহলে মূল ব্যাপারটি কি স্যার ?’
স্যার বললেন, -‘মূল ব্যাপার হল, আমি তোমাদের শিক্ষক । আমি খুব ভাল জানি পড়াশুনায় তোমাদের কে কেমন । আমি খুব ভাল করেই জানি, কার মেধা কেমন । সুতরাং, আমি চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারি কে কেমন রেজাল্ট করবে । ‘
আমি হাসলাম । বললাম,’ স্যার যারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে, তারা যদি আপনাকে দোষ দেয় ? যদি বলে, আপনি’সেকেন্ড ক্লাশ’ ক্যাটাগরিতে তাদের নাম লিখেছেন বলেই তারা সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছে ?’
স্যার কপালের ভাঁজ লম্বা করে বললেন,’ইট উড বি টোট্যালি বুলশিট ! আমি কেন এর জন্য দায়ী হব ? এটাতো সম্পূর্ণ তাদের দায় । আমি শুধু তাদের মেধা, যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা রাখি বলেই অগ্রিম বলে দিতে পেরেছি যে কে কেমন রেজাল্ট করবে । ‘
আমি আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলাম । পুরো ক্লাশ আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে ।
আমি থামলাম । বললাম,’ তকদির তথা ভাগ্যটাও ঠিক এরকম । আপনি যেমন আমাদের মেধা, যোগ্যতা, ক্ষমতা সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন, স্রষ্টাও তেমনি তার সৃষ্টি সম্পর্কে ধারণা রাখেন । আপনার ধারণা মাঝে মাঝে ভুল হতে পারে, কিন্তু স্রষ্টার ধারনায় কোন ভুল নেই । স্রষ্টা হলেন আলিমুল গায়েব । তিনি ভুত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ সব জানেন । ‘
আপনি যেরকম পূর্বানুমান করে লিখে দিয়েছেন যে, আমাদের মধ্যে কারা ফাস্ট ক্লাস পাবে, আর কারা সেকেন্ড ক্লাশ । এর মানে কিন্তু এই না যে, আপনি বলেছেন বলে আমাদের কেউ ফাস্ট ক্লাশ পাচ্ছি, কেউ সেকেন্ড ক্লাশ ।
স্রষ্টাও সেরকম পূর্বানুমান করে আমাদের তাকদির লিখে রেখেছেন । তাতে লেখা আছে আমরা দুনিয়ায় কে কি করবো । এর মানে কিন্তু এই নে যে, তিনি লিখে দিয়েছেন বলেই আমরা কাজগুলো করছি । বরং, এর মানে হল এই – তিনি জানেন যে, আমরা দুনিয়ায় এই এই কাজগুলো করবো । তাই তিনি অগ্রিম লিখে রেখেছেন তাকদির হিসেবে ।
আমাদের মধ্যে কেউ ফাস্ট ক্লাশ আর কেউ সেকেন্ড ক্লাশ পাবার জন্য যেমন কোনভাবেই আপনি দায়ী নন, ঠিক সেভাবে, মানুষের মধ্যেও কেউ ভাল কাজ করে জান্নাতে, আর কেউ খারাপ কাজ করে জাহান্নামে যাবার জন্যও স্রষ্টা দায়ী নন । স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ সকালে একজনকে খুন করবেন । তাই তিনি সেটা আগেই আপনার তকদিরে লিখে রেখেছেন । এটার মানে এই না যে – স্রষ্টা লিখে রেখেছেন বলেই আপনি খুনটি করেছেন । এর মানে হল – স্রষ্টা জানেন যে, আপনি আজ খুনটি করবেন । তাই সেটা অগ্রিম লিখে রেখেছেন আপনার তাকদির হিসেবে ।
স্যার ব্যাপারটা কি এখন পরিষ্কার ?
স্যারের চেহারাটা কিছুটা ফ্যাকাশে মনে হল । তিনি বললেন ,’হুম’
এরপর স্যার কিছুক্ষন চুপ থাকলেন । তারপর বললেন,’আমি শুনেছিলাম তুমি ক’দিন আগেও নাস্তিক ছিলে । তুমি আবার আস্তিক হলে কবে ?’
আমি হা হা হা করে হাসলাম । বললাম,’এই প্রশ্নটা কিন্তু আউট অফ কনট্যাক্সট । ‘
এটা শুনে পুরো ক্লাশ হাসিতে ফেটে পড়লো ।
পিরিয়ডের একদম শেষ দিকে, স্যার আবার আমাকে দাড় করালেন । বললেন,’বুঝলাম স্রষ্টা আগে থেকে জানেন বলেই লিখে রেখেছেন । তিনি যেহেতু আগে থেকেই জানেন কে ভাল কাজ করবে আর কে খারাপ কাজ করবে, তাহলে পরিক্ষা নেওয়ার কি দরকার ? যারা জান্নাতে যাওয়ার তাদের জান্নাতে, যারা জাহান্নামে যাওয়ার দরকার তাদের জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেই তো হতো, তাই না ?’
আমি আবার হাসলাম । আমার হাতে স্যারের লিখে দেওয়া কাগজটি তখনো ধরা ছিল । আমি সেটা স্যারকে দেখিয়ে বললাম,’স্যার, এই কাগজে কারা কারা ফাস্ট ক্লাশ পাবে, আর কারা কারা সেকেন্ড ক্লাশ পাবে, তাদের নাম লেখা আছে । তাহলে এই কাগজের ভিত্তিতেই রেজাল্ট দিয়ে দিন । বাড়তি করে পরিক্ষা নিচ্ছেন কেন ?’
স্যার বললেন,’পরিক্ষা না নিলে হয়তো এই বলে অভিযোগ করতে পারে যে, – স্যার আমাকে ইচ্ছা করেই সেকেন্ড ক্লাশ দিয়েছে । পরিক্ষা দিলে হয়তো আমি ঠিকই ফাস্ট ক্লাশ পেতাম । ‘
আমি বললাম,’একদম তাই স্যার । স্রষ্টাও এজন্যই পরিক্ষা নিচ্ছেন, যাতে কেউ বলতে না পারে – দুনিয়ায় পরিক্ষার ব্যাবস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আজকে জান্নাতে থাকতাম । স্রষ্টা ইচ্ছা করেই আমাকে জাহান্নামে পাঠিয়েছে । ‘
ক্লাশের সবাই হাত তালি দিতে শুরু করলো । স্যার বললেন,’সাজিদ, আই হ্যাভ এ লাস্ট কোয়েশ্চান । ‘
-‘ডেফিনেইটলি, স্যার । ‘ আমি বললাম ।
-‘আচ্ছা, যে মানুষ পুরো জীবনে খারাপ কাজ বেশি করে, সে অন্তত কিছু না কিছু ভালো কাজ তো করে, তাই না ?’
-‘জি স্যার’
-‘তাহলে, এই ভালো কাজগুলোর জন্য হলেও তো তার জান্নাতে যাওয়া দরকার, তাই না ?’
আমি বললাম,’স্যার, পানি কিভাবে তৈরি হয় ?’
স্যার আবার অবাক হলেন । হয়তো বলতে যাচ্ছিলেন যে, এই প্রশ্নটাও আউট অফ কনট্যাক্সট, কিন্তু কি ভেবে যেন চুপসে গেলেন । বললেন,’দুই ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেনের সংমিশ্রণে । ‘
আমি বললাম,’আপনি এক ভাগ হাইড্রোজেন আর এক ভাগ অক্সিজেন দিয়ে পানি তৈরি করতে পারবেন ?’
-‘কখনোই না । ‘
-‘ঠিক সেভাবে, এক ভাগ ভালো কাজ আর এক ভাগ মন্দ কাজে জান্নাত পাওয়া যায় না । জান্নাত পেতে হলে হয় তিন ভাগই ভালো কাজ হতে হবে, নতুবা দুই ভাগ ভালো কাজ, এক ভাগ মন্দ কাজ হতে হবে । অর্থাৎ, ভালো কাজের পাল্লা ভারী হওয়া আবশ্যক । ‘
সেদিন আর কোন প্রশ্ন স্যার আমাকে করেন নি ।
-এক নিঃশ্বাসে পুরোটা পড়ে ফেললাম । কোথাও একটু থমিনি । পড়া শেষে যেই মাত্র সাজিদের ডায়েরিটা বন্ধ করতে যাবো, অমনি দেখলাম, পেছন থেকে সাজিদ এসে আমার কান মলে ধরেছে । সে বলল,’তুই তো সাংঘাতিক লেভেলের চোর । ‘
আমি হেসে বললাম, -‘হা হা হা । স্যারকে তো ভালো জব্দ করেছিস ব্যাটা । ‘
কথাটা সে কানে নিলো বলে মনে হল না । নিজের সম্পর্কে কোন কমপ্লিমেন্টই সে আমলে নেয় না । গামছায় মুখ মুছতে মুছতে সে খাটের উপর শুয়ে পড়লো ।
আমি তার কাঁধে হাত রাখলাম । বললাম,’সাজিদ,………..’
-‘হু’
-‘একটা কথা বলব ?’
-‘বল’
-‘জানিস, এক সময় যুবকেরা হিমু হতে চাইতো । হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে, মরুভূমির গর্ত খুড়ে জ্যোৎস্না দেখার স্বপ্ন দেখত । দেখিস, এমন একদিন আসবে, যেদিন যুবকেরা সাজিদ হতে চাইবে । ঠিক তোর মতো । …’
এই বলে আমি সাজিদের দিকে তাকালাম । দেখলাম, ততক্ষনে সে ঘুমিয়ে পড়েছে । অঘোর ঘুম …………..
Sunday, May 02, 2021
- Anemia
- acute or chronic blood loss
- Thalassemia
- kidney failure
- chronic excessive alcohol intake,
- hypertriglyceridemia.
Monday, February 24, 2020
- গড়গড়ার সাথে কুলি করা(যদি সে রোযাদার নয়া হয়)
- নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌছানো।
- সমস্ত শরীরে ভালোভাবে পানি পৌছানো।
উপরোক্ত তিনটি কাজ সম্পাদন করলেই গোসল হয়ে যাবে, তবে নিম্নে বর্ণিত সুন্নাত তরীকায় গোসল করলে গোসল পরিপূর্ণ হবে এবং তা ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে।
- গোসলের প্রারম্ভে বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়বে।
- পবিত্রতা অর্জনের নিমিত্তে গোসল করছি এই নিয়ত করবে।
- অতঃপর রাসুলে পাক সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করতেন।
- অতঃপর নাপাকির স্থান তথা লজ্জাস্থান বাম হাতে তিনবার ধোয়ত করতেন।
- অতঃপর ডান হাতের সাহায্যে বাম হাতের উপর পানি ঢেলে তা ধৌত করে নিতেন।
- অতঃপর তিনি ওযু করতেন।
- অতঃপর ডলে ডলে চুলের গোড়ায় পানি পৌছাতেন।
- অতঃপর দুই হাত ভরে তিনবার মাথায় পানি ঢালতেন।
- অতঃপর ডান কাঁধে তিনবার পানি ঢালতেন।
- অতঃপর বাম কাঁধে তিনবার পানি ঢালতেন।
- অতঃপর সমস্ত শরীরে পানি পৌছাতেন।
- সবশেষে গোসলের জায়গা হতে সরে গিয়ে পাদ্বয় ধৌত করতেন।
- গোসল শেষে রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুমাল ব্যাবহারের পরিবর্তে শরীর মুবারক থেকে পানি নিঃশেষে ঝেড়ে দিতেন ।আবার কখনো রুমাল দ্বারা মুছে নিতেন।
Saturday, July 20, 2019
আমরা দীনী কাজের প্রচার প্রসারের লক্ষ্যে মুসলমান ভাইদের পেছনে কয়েকভাবে মেহনত করতে পারি-
- হক্কানী উলামায়ে কেরামের সাথে দীনী সম্পর্ক জুড়ে দিতে পারি ।
- সুন্নাতের অনুসারী হক্কানী পীর-মাসায়েখের কাছে নিয়ে বাইয়াত করিয়ে দিতে পারি।
- প্রত্যেক আপন আপন মসজিদে নমুনায়ে সুফফার প্রোগ্রামগুলো চালু করতে পারি।
- দাওয়াত ও তাবলীগের সাথে জুড়ে দিতে পারি।
- যারা মাদরাসায় পড়ে না ,তাদেরকে তাশকীল করে মাদরাসায় পড়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে পারি।
- ছোটদের এবং বয়স্কদের জন্য প্রতিটি মসজিদে নূরানী পদ্ধতিতে কুরআন ও দীনী শিক্ষার কোর্স চালু করতে পারি।
- স্কুল, কলেজ,ও ইউনিভার্সিটির প্রধানদের সাথে যোগাযোগ করে দীনী তা লীমের ব্যবস্থা করতে পারি।
- কলকারখানা, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থানে কর্মরত লোকদের পিছনে দীনী মেহনত করতে পারি।
উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ছাত্ররা আপন আপন ছুটিতে নিজ পরবার পরিজন তথা মা-বাব, ভাই-বোন এবং এলাকার মুসলমান ভাইদের পিছনে দীনী মেহনত করুন।যথা- তাদেরকে কালিমা, ঈমান, নামায, কুরান তেলোয়াত, রোযা ও হজ্জ-যাকাত এবং অন্যান্য দীনী বিষয়াবলি শেখান।কাউকে তিরস্কার কিংবা ভর্ৎসনা না করে, মারপিট বা গালমন্দ থেকে বিরত থেকে প্রিয় নবীজী ও সাহাবায়ে কেরাম এবং আকাবেরে উম্মতের মত হিকমতের সাথে শুধু জাহান্নামের ভয় এবং জান্নাতের সুসংবাদ দানের মাধ্যমে দীনী মেহনত করুন।
আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন। আমিন!
Wednesday, July 17, 2019
আলেমগণ হচ্ছেন নবীর উত্তরসূরি।তাই তাঁদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের থেকে একটু বেশিই।
একজন সাধারণ মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব ৪ টি।আলেমগণের ক্ষেত্রে সাথে আরো ৪ চারটি দায়িত্ব রয়েছে,যা নিছে দেওয়া হলো।
![]() |
| লা ইলাহা ইল্লাল্লহ |
মানুষ হিসেবে ৪ টিঃ
- ঈমান আনা
- আমলে সালেহ তথা সৎ কর্ম করা
- সঠিক দীনের উপর থাকার জন্য একে অপরকে উপদেশ দিতে থাকা
- আমলের পাবন্দী করার জন্য একে অপরকে উপদেশ দিতে থাকা। অর্থাৎ কারো মধ্যে কোনো ত্রুটি দেখতে পেলে তা সংশোধনের নসীহত করা।
নবীর উত্তরসূরি হিসেবে আরো ৪ টি কাজ রয়েছে যা নবীজীর যুগে নবুয়তের দায়িত্ব হিসেবে ছিলোঃ
- কুরানে কারীম তেলোয়াত করে লোকদের শোনানো।
- বাহ্যিক ও আত্মিক সব ধরনের নাপাকি তথা বাতিল আকিদা ও মন্দ স্বভাব-চরিত্র থেকে পবিত্র করে উত্তম স্বভাব -চরিত্রে চরিত্রবান করা।মন্দ স্বভাব হলো ১০ টিঃলোভ, আশা, ক্রোধ, মিথ্যা, পরনিন্দা, কার্পণ্য, হিংসা, লোক দেখানো আমল ও বিদ্বেষ। আর উত্তম স্বভাব হলো ৯ টিঃ ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, অল্পেতুষ্টি, জ্ঞান, বিশ্বাস, সমর্পণ, নির্ভরশীলতা, সন্তুষ্টি ও স্বীকৃতি।
- কুরানে কারীমের ভাববস্তু তথা কুরানে উল্লিখিত মাসয়ালা ও নসীহত ইত্যাদি শেখানো।
- লোকদের সুন্নাত তথা সেসব তালীম ও হিদায়াত শেখানো, যেগুলো রাসূল সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি, কর্ম বা অনুমোদন দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দীনী অত্যাবশ্যকীয় সকল ইলম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই বিষয়-চারটি নবুয়াত যুগে রিসালাতের পদবীয় কর্তব্য হিসেবে সূরা জুমুআয় উল্লেখ হয়েছে-
"তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাঁদের নিকট পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত, যদিও ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিলো।"
এভাবে এ বিষয়টি সূরায়ে বাকারা [আয়াত ১২৯ ও ১৫১] ও সূরা আলে ইমরানে [আয়াত ১৬৪] বর্ণিত হয়েছে। এসব আয়াত দ্বারা এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, এ কাজে চারটি হল নবী-প্রেরণের উদ্দেশ্য। আর এগুলো হল রিসালাতের পদবীয় দায়িত্ব বা করনীয়।
Sunday, July 14, 2019
হাদীসের কিতাব সমুহ বিভিন্ন ধরনের। সব ধরনের কিতাব সব শ্রেনীর পাথকের জন্য উপযোগী নয়।কারণ সব শ্রেণীর মানুষ সব ধরনের কিতাব থেকে যথাযথ উপকৃত হতে পারে না।সব শ্রেণীর পাঠকের উপযোগী কিছু কিতাবের নাম নিম্নে দেওয়া হলোঃ
- আল আদাবুল মুফরাদ, ইমাম বুখারী
- রিয়ায়ুস সালেহীন,ইমাম নববী
- আলয়াযকার,ইমাম নববী
- আল হিসনুল হাসীন, ইবনুল জাযারী
- আশশামায়েল, ইমাম তিরমীযি
- মিন মায়িনিশ শামায়েল, সালেহ আহমদ শামী
- মাআরেফুল হাদীস,মুহম্মাদ মঞ্জুর নোমানী
- তরজমানুস সুন্নাহ, বদরে আলম মীরাঠী
- হাদীসের আলো, মুহিউদ্দিন ইবনে শায়েখ মুহম্মদ আওয়ামা
- মুন্তাখাব হাদীস,মাওলানা মুহম্মাদ ইউসুফ
- হাদিসের আলো জীবনের পাথেও, তরজমাঃউম্মে আবদুল্লাহ,ব্যাখ্যাঃ মাওঃ আবু তাহের মিসবাহ
- ফাযায়েলে জিন্দেগী, মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন
- ফিকহুস সুনানী ওয়াল-আছর, আমিমুল ইহসান মুজাদ্দেদী
- দলিলসহ নামাযের মাসায়েল, মাঃ আব্দুল মতিন
- নবীজীর নামায, ইলিয়াস ফয়সাল, মদিনা মুনাওরা, অনুবাদঃ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ, প্রকাশকঃ মাকতাবাতুল আশরাফ।
এর মধ্যে কিছু কিছু কিতাবে তো হাদীসের সাথে বাংলা অনুবাদও আছে।অন্য কিতাবগুলোর অধিকাংশেরই বাংলা কিংবা ইংরেজি অনুবাদ হয়েছে। এই সব কিতাব পড়ার ক্ষেত্রে কোনো স্থানে প্রশ্ন জাগলে নিজে দেমাগ খরচ না করে আলেমদের কাছ থেকে বুঝে নিতে হবে ।
আল্লহ আমাদের আমল করার ও অন্যদের কাছে পৌছানোর তাওফিক দান করুন।আমিন।।
Saturday, July 13, 2019
Friday, July 12, 2019
Thursday, July 11, 2019
Wednesday, July 10, 2019
Monday, July 01, 2019
- আলাহর হুকুম মনে করে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা ।যেহেতু আল্লাহ পাক হুকুম দিয়েছেন " তোমরা খাও পান কর" সুতরাং ক্ষুদা নিবারনের জন্য নয় আল্লাহর হুকুম জেনে খানা খাওয়া।
- খাদ্যের মাধ্যমে আল্লহ পাক যে শক্তি দান করবেন, তাঁর দ্বারা ইবাদত করার নিয়ত করা।
- খানার কোনো শক্তি নেই এই একীন করে খাওয়া। যদি শক্তি থাকতো তবে একই পরিবারের সদস্যগণ একই খানা ভক্ষণ করছে কিন্তু একজন মোটা-যুবক হচ্ছে আর একজন দুর্বল বা বুড়ো হচ্ছে, এমনটি হতো না।
- খানা খোঁজ খবর নিয়ে খাওয়া। আমি বাসার জন্য মাছ ক্রয় করিনি, বাসায় মাছ দেখছি,কোত্থেকে এলো খোজ নেওয়া। হোটেলে গোশত খেলে। বিসমিল্লাহ বলে জবেহ করেছে কি না খোঁজ নেওয়া। ইত্যাদি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন পদ্ধতির এক পদ্ধতি তে বসতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেয়ার টেবিলে বসে কখনো আহার করেন নি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহারের জন্য সর্বদা ডান হাত ব্যাবহার করতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক লোক নিয়ে খানা খেতেন।এবং বলতেন যত হাত তত বরকত।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য বস্তুর প্রশংসা বা নিন্দা কোনোটাই করতেন না, প্রশংসা না করার কারণ এই যে, প্রশংসার দ্বারা লোভ লালসা এসে যায় এবং নিন্দা না করার কারণ এই যে, এটা আল্লাহ পাকের নেয়ামত।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার পূর্বে দুই হাত ধৌত করতেন। বর্তমানে আমরা এক হাত ধৌত করি,এটা সুন্নতের পরিপন্থি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা দস্তর খানা বিছিয়ে খানা খেতেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম লোকমা গ্রহণের সময় এ দুআ পড়তেন-উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ওয়াআলা-বারকাতিল্লা-হ, অথবা ইয়া-ওয়াসিআল মাগফিরলি।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার শুরুতে বিসমিল্লাহি এবং খানার শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়তেন।(এবং বলতেন, যে নেয়ামতের শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়, সে নেয়ামতের হিসাব নেওয়া হবে না। )
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার শুরুতে দ্যা ভুলে গেলে এ দুআ পাঠ করতেন- উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরহ।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের থেকে খাওয়া শুরু করতেন। খানার মাঝে হাত দেওয়া থেকে বারণ করতেন আর বলতেন খানার মাঝে বরকত থাকে।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে আঙ্গুল চেটে খেতেন এবং ইরশাদ করতেন আঙ্গুল চেটে খাও,কারণ জানা নেই খানার কোন অংশে বরকত থাকে।আর আঙ্গুল চেটে খাওয়ার তরীকা হচ্ছেঃ প্রথমে মধ্যমা, অতঃপর শাহাদাত, বৃদ্ধা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা চেটে খাওয়া।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তিন আঙ্গুলে কখনো চার আবার কখনো পাঁচ আঙ্গুলে আহার করতেন। পক্ষান্তরে দুই আঙ্গুলে আহার করাকে শয়তানের আহারের পদ্ধতি বলে আক্ষা দিয়েছেন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানায় অথবা পেয়ালা থেকে পড়ে যাওয়া খাদ্য তুলে খেতেন এবং বলতেন পড়ে যাওয়া লোকমা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিও না।
Saturday, June 29, 2019
- মজলিসে উপস্থিত মুরব্বিকে দিয়ে খানা শুরু করানো সুন্নাত।
- মাঝে মাঝে (উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ ওয়া লাকাশ শুকর লা উহছি ছানা-আন আলাইকা " )কেননা রসুল (সঃ) বলেন, বান্দা যখন এক লোকমা খাবার বা পানি গ্রহণ করে এ দুআ পাঠ করে তখন আল্লাহ পাক অত্যন্ত খুশি হন।
- রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি হেলান দিয়ে বা হাতে ভর দিয়ে আহার করি না।সুতরাং তোমরাও করো না। ভর দেওয়া তিন ধরনের হতে পারে ঃ
২) হাটুতে ভর দিয়ে খাওয়া
৩) এক হাতে ভর দিয়ে খাওয়া।এই তিন ধরনের ভর দেওয়াই নিন্দবনীয়।
