নীলনন্দন
-মুহাম্মদ শরিফ
মায়ের কোল আলো করে চাঁদের মত স্নিগ্ধসুন্দর ফুটফুটে ছোট্ট শিশুর আগমন। ভারি মিষ্টি চেহারা নাদুসনুদুস আর লাল টুকটুকে।দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে এমনই দৃষ্টি আটকে যাওয়া তাঁর চাহনি।মায়ের কাছে তাঁর কান্নার শব্দ এমনই কলিজা ঠান্ডা করা অনুভূতি যে, সমস্ত ব্যাথ্যা মুছে দিতে সক্ষম।কি দারুন চেহারার ঝুরঝুরানি।দবদবে ফর্সা গায়ের আবরণ। সেজন্যই দাদীমা আদর করে রসুনের খোসা বলে ডাকা শুরু করে দিয়েছেন। এ যেনো রাজপুত্র, মহারাজ্যের ছোট্ট মধ্যমণি।এমন সুদর্শন নন্দনলক্ষীর আগমন বার্তা যে বাতাসের আগে ধায়,তা পরক্ষনেই বুঝতে আর তিলটুকু বাকি থাকলো না। ছোট্ট ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে পাড়ার এপাশ সেপাশ থেকে চাচি-দাদি-নানিদের আসা-যাওয়া শুরু হয়ে গেছে নন্দন লক্ষীকে এক নজর দেখার জন্য। কিছুক্ষনের মধ্যেই এমন উপচে পড়া ভীড়, সামাল দেওয়াটাই কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামলে উঠতে দাদি মিঠায় বিতরণ শুরু করে দিয়েছেন। ছোট ছেলেপুলের চোখ এবার মিষ্টির ঠোঙ্গার দিকে।একটা মিষ্টি নিয়ে সোজা পকেটে ঢুকিয়া দ্বিতীয়টির ধান্ধায় হাত বাড়ালেই দাদি দিচ্ছে এক ধমক।তবে মুরব্বিদের ভীড় কমার তেমন কোনো লক্ষণ নেই। তাই মতিন মিয়া ভিড়ভাট্টা ঠেলে ভাতিজাকে একনজর দেখে বাইরে এসেই আচমকা আযান দিতে শুরু করে দিলো। কিন্তু দু-এক লাইন বলতে না বলতেই মক্তবের হুজুর এসে ধমক দিয়ে মতিনকে থামালেন। আজহার মিয়াকে ডেকে বললেন “মিয়াঁ, সন্তানের কাছে নিজে গিয়ে তাঁর ডান কানে আযান আর বাম কানে একামত দাও। আর মতিন মিয়াঁ, আযান এমনে জোরে জোরে দেওয়া লাগে না। সন্তানের কানে কানে দিতে হয়।“
আজহার মিয়াঁ, নিজের সন্তানের প্রতি সবার এমন ভালোবাসা দেখে আহ্লাদে কেঁদেই ফেলবেন মনে হচ্ছে। হুজুকে বললেন “দোয়া করবেন হুজুর, ছেলের উপর কারো বদনজর যেনো না লাগে।“ এইকথা শুনে হুজুর বললেন,”শুন মিয়াঁ এইসব বদনজর-কুনজর বলতে কিছুই নেই। তুমি যদি এই সবের থেকে বাঁচার জন্য সন্তানের কপালে কাজলের কালো টিপ দিয়া রাখো,কালো টিপের উপর ভরসা করো, তাহলে শিরক হবে। অনেক বড় গোনাহ।।“ জুম্মার নামাযে আইসো তোমারা” এই বলে হুজুর চলে গেলেন।
যাইহোক, যে যার কাজে যেতে লাগলো। নন্দনের কাছে এখন মমতাময়ী মা আর দাদি। আজহার মিয়াও মাঠের কাজে বেরিয়ে পড়েছেন।
নন্দন বড় হচ্ছে। দাদিমার পীড়াপীড়িতে নন্দনের কপালের এক পাশে এঁকে দেওয়া হয় একটা কাজলের চাঁদ। মতিন মিয়াঁ বারংবার এসে বলে যায় ভাতিজাকে সন্ধ্যার পর যেনো কখনোও বাড়ির বাইরে নেওয়া না হয়। মতিনের ভয়, এমন সুন্দর চেহারার ছেলে দেখলে পরীরা নিয়ে যেতে পারে। এতদিনে নন্দন অল্প অল্প কথা বলতে শিখে ফেলেছে।তবে অস্পষ্ট।তাতে কি? সন্তানের কোনো ভাষাই মায়ের কাছে দুর্বোদ্ধ নয়। যাই বলে না কেনো, মা সেটার উত্তর দেন, আকারে ইঙ্গিতে, ইশারায় বা গল্প বলে।
কি এক আজব ভালোবাসা, গভীর মমত্ববোধ। মাতৃত্ব যেনো এক একক বৈশিষ্ট্য যা আল্লাহ প্রত্যেক মাকে দিয়ে থাকেন। সন্তান মা-এর আর মা সন্তানের। তৃতীয় পক্ষ নেই , তাঁর অস্তিত্বও নেই।
মাঝে মাঝে নন্দনের ঘুম আনার জন্য মা তাঁর পায়ের উপর রেখে দোল দেয়, নন্দনের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটানোর জন্য মা নিজের আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে দেন আবার হঠাৎ করে আঁচল সরিয়ে ভয় পাইয়ে দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করেন । যার প্রতিউত্তরে একটা কলিজা ঠান্ডা করা হাসি দিয়ে মায়ের অন্তর শীতল করে দেয় নন্দন। শান্তির স্পর্শ মায়ের মনকে বরফ শীতল করে দেয়। কি ছলনাশূন্য ভালোবাসা, যার মধ্যে কৃত্রিমতার লেশমাত্র ছোঁয়া নাই।
মায়ের কাছে সন্তান পৃথক কিছু নয়, এ যেনো নিজের কলিজার একটা অবিচ্ছেদ্য খন্ড। যা দূরে রাখা সম্ভব নয়। মাতৃহৃদয় সেকথা কখনো কল্পনাও করতে পারে না।কলিজার ধন ছাড়া জীবন ছন্নছাড়া ,গতিহীন, নিথর ও অন্তঃসারশূন্য। মায়ের কলিজার ধন যতই বড় হতে লাগলো ততই তাঁর মাথায় বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে লাগলো। এ যেনো রাজপুত্রের রাজ্য রক্ষা বা ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা। কিন্তু রাজপুত্র তো এখনো হাটতেই শিখেনি, তাতে কি? তাই বলে তো ঘরে বসে থাকা যাই না। হামাগুড়ি দিয়েই আপাতত কার্যোদ্ধার করার চেষ্টা চলতে লাগলো। মা তাকে যে, হাতিম, জুজু, বানর, বাঘের বৃথা ভয় দেখায় সেটা সে বুঝতে পেরেছে আর সেজন্য মায়ের নতুন ভৌতিক উদ্ধাবন আনারসের ডোরাকাটা খোসা। এতেই রাজপুত্র কুপোকাত।
তখন সময়টা বোধ করি এপ্রিলের শেষের দিক। আম গাছের আমে, এখনো পরিপক্কতা আসে নি। হঠাৎ বৃষ্টি হলো আর আনারসের খোসাগুলো বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেলো। এখন প্রতিবন্ধকতা নাই ভয়ও নাই । একটু ঝকঝকে রোদে উঠানের স্যাঁতস্যাঁতে ভাবটাও আর নেই। শুরু হলো নন্দনের অভিযান। একটু একটু করে পা বাড়িয়ে মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঘরের বাইরে চলে যেতে থাকে নন্দনমানিক।বাইরে হালকা বাতাস বইছিলো সেদিন। আমগাছের পোকাই খাওয়া গুটি হালকা বাতাসেই নিচে পড়ছে আর ছোট ছেলেমেয়েরা সেগুলো পাল্লা দিয়ে আম কুড়ানোর ছোটো ছোটো ডোলায় তুলে নিচ্ছিলো। নন্দনও তাঁদের সাথে যোগ দিলো অবলীলায়।
হঠাৎ একটা পোকায় খাওয়া আম এসে পড়লো নন্দনমানিকের সামনে আর ছেলেমেয়ে গুলো তাকিয়ে আছে নন্দনের দিকে। আমটি তুলে কি করে নন্দন, সেটা দেখার জন্য। আমের গুটিটি ধরেই মুখে পুরতে উদ্যত হয়। অমনিই কোত্থেকে এক বিষাক্ত পিঁপড়া এসে রাজপুত্রের ধবধবে সাদা পীঠের উপর বিষাক্ত কামড় বসিয়ে দেয়। নন্দনের চিৎকারে মা দৌড়ে ছুটে আসেন আম গাছের নিচে, দেখেন নন্দন কাঁদছে । ছেলেমেয়েগুলো ততক্ষণে দৌড়ে পালিয়েছে সেঁজুতি ছাড়া। সে কাহিনী খুলে বললো । কিন্তু পিঁপড়াটা যে খুবই বিষাক্ত ছিলো তা আর বুঝতে বাকি থাকলো না।কারণ ততক্ষণে বিষের প্রভাবে নন্দনের চেহারায় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। লাল সুন্দর চেহারাটা কেমন নীল হয়ে যাচ্ছে দাদী, চাচা-চাচি আশেপাশের সবাই ছুটে আসে। যে যার মত করে প্রথমে চেষ্টা করেও কোনো সুফল পেলোনা। বাজারের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যখন রওনা দিবে এমনসময় রাস্তায় এক হাতুড়ে ডাক্তারের সাথে দেখা। নন্দনের শরীর দেখেই ডাঃ বললেন আর নেওয়া লাগবে না। ও আর বেঁচে নেই। নন্দনের মা সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। ধরাধরি করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরার সাথেই মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ “আমার নন্দন কৈ? ও নন্দনমানিকরে আমার। আমার নন্দন কৈ? আমার নন্দন…“ সাথে সাথে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
অন্যদিকে , নন্দনকে উঠানে একটা ছোট খাটের উপর শোয়ানো হয়েছে। মক্তবের হুজুর এসে পানি পড়ে মুখের উপর ছিটিয়ে দেখলেন কাজ হয় কি না। হলো না। নন্দনের দাদা-নানা দুজনেই কবিরাজ । দুজনের চেষ্টাই ব্যার্থ। গ্রামের বড় তুলোরাশি বলে খ্যাত হাবিবুর শেখ তাঁর সমস্ত কিছু দিয়ে চেষ্টা করতে থাকলেন। কাজ হচ্ছে না। এতক্ষণে নন্দনের লাল-সুন্দর চেহারার পুরোটাই বিলুপ্ত হয়ে নীল বর্ণ ধারণ করেছে। কেউ মাঝেমাঝে নাকের উপর হাত রেখে দেখতে চেষ্টা করছে শ্বাস বইছে কি না। মায়ের অবস্থা একবার জ্ঞান ফিরছে আরেকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। যে সন্তান কোল আলো করে এসেছিলো, ছোট ছোট অস্পষ্ট কথায় কলিজা ঠান্ডা করে দিয়েছিলো। সেই কলিজার ধন চিরোদিনের মত হারিয়ে যাবে। কি করে মেনে নিবেন মা। পুত্রশোক যে কি বেদনাদায়ক তা কেবল সেই মা-ই বলতে পারেন যার পুত্রবিয়োগ ঘটেছে। যে সন্তানের একটি হাসি হাজারো দুঃখ মুছে দিয়েছিলো সেই মহামূল্যবান মাণিক নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অসহায়ের মত জন্মদাতৃ মা হয়ে এটা কিভাবে সহ্য করা সম্ভব?
আজহার মিয়াঁকে ডাকতে মতিনকে পাঠানো হয়েছে । প্রায় দুই কিলো দূরের একটা ক্ষেত দেখতে গিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বড় কবিরাজ এসে দেখে কিছু একটা অনুমান করতে পেরেছেন, কিন্তু কাউকে কিছু না বলে নিজের থলের ভিতর থেকে একটা লোহার কাঁচি বের করে নন্দনের কপালের উপর তা ঘুরাতে শুরু করলেন, আর একজন তুলারাশিকে বললেন হাত চালাতে।। শরীরের মধ্যে বিষ যেখানে, তুলারাশির হাত মাটি থেকে চলতে চলতে সেখানে গিয়ে থামে। নন্দনের ক্ষেত্রে হাত একদম মাথায় গিয়ে থামছে। মানের বিষ নন্দনের মাথায় উঠে গেছে। আর এমনটি কেউ বাঁচে না। জানে সবাই।
ওদিকে মতিন দৌড়াতে দৌড়াতে পৌছে গেছে, গিয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগলো“ভাইজান,বাড়ি চলেন, নন্দনেরে কিসে যানি কামড়াইছে,আব্বাই,নন্দনের নানাই কিচ্ছু করতে পারে নাই। সারাডা শরীল নীল হয়ে গেছে। নিঃশ্বাস নিতি পারতিছে না ঠিক মত।দ্রুত চল ভাইজান”বলে বড় ভাইয়ের উত্তরের অপেক্ষায় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে মতিন। তখনই আজহার মিয়াঁর গত রাতের স্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেলো।স্ব প্নে দেখেছিলেন, একটা ঘোড়া তাঁর ঘরের সামনে এসে দাড়ানোর পরেই ঘোড়ার গলা আলাদা হয়ে গেলো। তারপর তিনি ঐ ঘোড়ার দেহ আর গলা নিয়ে এলাকার সুপরিচিত কারী সাহেবের নিকট নিয়ে গেলে তিনি আবার গলা ঘোড়ার দেহ খন্ডের সাথে জোড়াইয়া দিলেন। স্বপ্নই যদি ইঙ্গিত হয় তাহলে তো নন্দনের মরে যাওয়ার কথা নয়।। আমার নন্দনের কিচ্ছু হয় নাই ,কিচ্ছু হবে না। বলে নিজেকে স্বান্তনা দিতে থাকলেন। কিন্তু ভিতরে যে দূর্বলতা আর রক্তক্ষরণ শুরু হচ্ছিলো তা তো আর কারো চক্ষুষ্মান হওয়ার কথা নয়। দুজনেই রওনা দিলেন বাড়ির দিকে।
বাড়ির উঠানে মানুষের ঢল। নন্দনের খবর যে শুনছে, দৌড়ে আসছে। সবারই মুখে আল্লাহ আল্লাহ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ কালেমায়ে শাহাদাত পড়ছে।
আজহার মিয়াঁ বাড়ির কাছাকাছি আসতেই যার সাথে দেখা হচ্ছে , সে একটু-আধটু স্বান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাতে আজহার মিয়ার দূর্বলতা কমছে না বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তখনও মনের জোর বোঝানোর জন্য আজহার মিয়াঁ সবাইকে বললেন”আমার নন্দনের কিছুই হয় নাই, হবেও না, আমি স্বপ্নে দেখেছি” বলতে বলতে বাড়ির একদম কাছে আসতেই দেখলেন বাড়ি ভর্তি মানুষ। তখন আর নিজের কান্না ধরে রাখতে পারলেন না। বুকচেরা আর্তনাদ।কান্না আর কতক্ষণ জোর করে চাপিয়ে রাখা যায় মিথ্যা স্বান্তনায়? চিৎকার দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। সুরুজ, রাজীব আর মতিন আজহার মিয়াঁকে ধরাধরি করে একখানে বসালেন। এমনিতেই আজহার মিয়াঁ বড়ই নরম স্বভাবের মানুষ, তারপর আবার এমন নির্মম আঘাত কেমনে সইবেন। ঝর ঝর করে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন বাচ্চা মানুষের মত।।
ওদিকে, সেই যে কাঁচি ঘোরানো শুরু হয়েছিলো এখনো চলছে। মক্তবের হুজুর বারান্দার এককোণে গিয়ে একাধারে, একধ্যানে নামায পড়ছেন, হুজুরের ছোট ছেলে হাফেজ ইবরাহিম সুমধুর কন্ঠে কোরআন তিলায়তে মশগুল আছে । বারবার সূরা ইয়াসিনের আয়াতগুলো শোনা যাচ্ছে। ঘরের ভিতরে কয়েকজনের কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ভিড়ের অনেকেই আল্লাহ আল্লাহ করছেন। আসলে মানুষ যাকে প্রকৃতই ভালোবাসে তাঁর জন্য মন থেকেই দোয়া করে। এতে কোনো কার্পণ্য করে না।
এমন মুহূর্তে হঠাৎ কেমন যানি সবাই নীরব হয়ে গেলো। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। একদম পিনপতন নীরবতা যাকে বলে। নন্দন। কি হলো নন্দনের? কাঁচি ঘোরানো বন্ধ করে দিয়েছেন। তুলারাশির হাত থেমে গেছে। এত মানুষের ভীড়, কারো পায়ের শব্দ পর্যন্ত নেই। সবাইর কান্না কি শেষ হয়ে গেলো? ছোট্ট যে দেহটা নীল হয়েছিলো তাঁর অস্তিত্ব কি…! না এ হতে পারে না। এমন ভাবনা উপস্থিত সবাইর মধ্যেই বিরাজ করছে।।তারপর নন্দনের একমাত্র মামা রাইসুল আল্লাহু আকবার বলে চিৎকার দিয়ে উঠলেন “ আমাদের নন্দন বেঁচে আছে! ঐ যে দেখো তোমরা, দেখো”
এই একটি চিৎকারই যেনো ঘর উঠানসমেত সমস্ত মানুষের প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেকের নয়ন জলে চোখ ছলছল করছে। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে অনেকে কেঁদেই দিলেন। এমন আনন্দে চোখের পানি ধরে রাখা কি সম্ভব!! আস্তে আস্তে নন্দনের দেহের নীল রং মিলিয়ে যাচ্ছে, ফিরে আসছে সেই সুন্দর নয়ন জুড়ানি চেহারার লাবণ্যতা । এক দৌড়ে ছেলের কাছে চলে আসলেন আজহার মিয়াঁ। নন্দন চোখ খুলছে। আসমানে দিকে তাকিয়ে আল্লাহর শুকরীয়া আদায় করছে বুঝি। মা এসে বুকে চেপে ধরে কাঁদতে থাকলেন । তবে এ কান্না আর একটু আগের কান্নার মধ্যে অঢেল পার্থক্য আছে।


No comments:
Post a Comment
Thank You Very Much for commenting.