মৃত্যু
মোহাম্মাদ শরিফ
সহায় সম্বলহীন এক যুবক
এতীম জন্ম থেকেই
একা একা ঘুরে ফিরে তাঁর
দূঃখের শেষ নাই।
যত আত্মীয় স্বজন ছিলো
সবে গিয়েছে মরে
অসহায় এতীম যুবক ছেলেটির
নয়ন আশ্রু ঝরে।
বন্ধু নাই,স্বজন নাই
একাই জীবন কাটে
মজদুরি দিতে গেলো একদিন
কদমতলীর হাটে।
গৃহস্ত এক কিনে নিলো তারে
কিছু দিনের জন্য
যুবক ভাবিল সঙ্গি পাবো
ঘুচাবে জীবন অরণ্য।
একা থাকার সব বেদনা
যাবো আমি ভুলে
একাই যদি থাকতে হয়,খোদা
নিয়োগো আমায় তুলে।
বাড়িতে গিয়ে দেখলো যুবক
একাই মজদুর সে
একাই খাবে,একাই যাবে
ধান ক্ষেতে জমি চাষে।
গেল একদিন কাটতে ধান
বাধলো বোঝা পাটে
এত বড় হলো বোঝা
পারেনা একা উঠাতে।
ধৈর্য ধরে বসে রইলো
চেয়ে দিগন্তের পান,
আর একজন যদি পেতাম
হতো একাজে আছান।
সন্ধ্যা বেলা ঘনিয়ে এলো
এদিকে এলো না কেউ
আর পারে না সইতে দুঃখ
মরতে চাই সে ও।
এবার দেখলো কেউ একজন
আসছে এদিক পানে
বড্ড দেহ,মানুষ না জ্বিন
কি হবে কে তা জানে?
দেহখানা বললো বজ্র কন্ঠে
আমি মালাকুল মউত
চেয়েছো মৃত্যু,এসেছি আমি
ঘোচাতে দুঃখ আঘাত।
ভয়ে থরথর কাপছে যুবক
কাঁপুনি বুকের পাটায়
যুবক বললো বোঝাটা ভারী
উঠিয়ে দাও গো মাথায়।
কষ্ট যতই হোক দুনিয়ায়
মরতে চাই না কেউ,
মরবার আশা করলেও,পরে
মউত দেখলে ভেউ।
গলায় রশি বা বিষের শিশি
ইচ্ছা করেই নেয়
ছটফট করে বাঁচার জন্য,যখন
জানটা বাহির হয়।
আত্মহত্যা মানেই দোযখ
এর বিকল্প নাই
স্বাভাবিক মৃত্যু,ঈমানের সাথে
সবারই যেনো নসীব হয়।।


No comments:
Post a Comment
Thank You Very Much for commenting.