ডায়বেটিস গুডবাই!
ডায়বেটিস কি এটি পরিষ্কার জানলে রোগটি থাকার কথা নয়। এটির ডেফিনিশন খুবই সরল। দেহ রক্তে গ্লুকোজ এর বেশী পরিমান উপস্থিতিকে ডায়বেটিস বলে। গ্লুকোজ হচ্ছে দেহ কোষের খাবার সুতরাং গ্লুকোজ রক্তেই থাকবে এটিই স্বাভাবিক। এ গ্লুকোজ থেকেই দেহ কোষ শক্তি উৎপাদন করে। এ জন্য গ্লুকোজকে বলে দেহ কোষের জ্বালানী। সৃষ্টিকর্ত্তা এ রহস্য জানতেন তাই প্রকৃতির সকল খাবারে গ্লুকোজ রেখে দিয়েছেন। অামরা যখনই কোন খাবার খাই সে খাবার ভেঙ্গে দেহে গ্লুকোজ তৈরি হয়। এ গ্লুকোজ পাকস্থলী থেকে লিভারে যায়, লিভার থেকে হার্টে অাসে। হার্ট পাম্প করে সেটি সাড়া দেহ রক্তে ছড়িয়ে দেয়। দেহ রক্ত থেকে এটি কোষের ভিতর প্রবেশ করে। কোষ এটি থেকে শক্তি তৈরি করে। অামাদের দেহবল মূলতঃ গ্লুকোজ পোড়া শক্তি। অার এ শক্তি ব্যবহার করেই দেহ অঙ্গ পরিচালিত হয়। দেহের লক্ষ লক্ষ প্রানরাসায়ন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় এ শক্তি থেকেই। এ গ্লুকোজ পুড়ে গিয়ে দেহ কোষে তিনটি পদার্থ তৈরি হয়ে দেহ থেকে বেড়িয়ে যায়। এ পদার্থগুলো হচ্ছে পানি,কার্বনডাইঅক্সাইড ও শক্তি (এটিপি)। অতিরিক্ত পানি মুত্র দিয়ে বের হয়,কার্বনডাইঅক্সাইড শ্বাস ফেলার মাধ্যমে এবং শক্তি দেহে ব্যবহৃত হয়। এ ভাবে খাদ্য থেকে অাসা গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করে,রক্ত থেকে কোষে এবং সে গ্লুকোজ পানি,কার্বনডাইঅক্সাইড ও শক্তি তৈরির মাধ্যমে দেহ থেকে নিঃশেষ হয়। এ প্রক্রিয়াটি সঠিক ভাবে সম্পন্ন হলে দেহ রক্তে অতিরিক্ত কোন গ্লুকোজ থাকার কথা নয়। দেহ রক্তে গ্লুকোজ অাসবেই কারন এটি কোষের খাবার। এটিকে কোন ভাবেই অাটকানো যাবেনা।
তাহলে রক্তে পরিমানের বেশী গ্লুকোজ তখনেই থাকবে যখন রক্তের গ্লুকোজ কোষের ভিতর ঢুকতে পারেনা। রক্তে পরিমানের বেশী গ্লুকোজ থাকা উচিত নয়। এতে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। দেহে রক্ত পরিবহন রক্তনালীর দৈর্ঘ প্রায় দেড়লাখ কিলোমিটার। হার্ট থেকে উত্থিত এ নালী দেহের শেষ প্রান্তে পৌঁছে সেখান থেকে অন্যনালী পথে অাবার হার্টে ফিরে অাসে। দেহের শেষ প্রান্তের রক্তনালী খুবই চিকন কয়েক মাইক্রোন (১ মাইক্রোন ১ মিটারের ১০ লক্ষ ভাগের ১ ভাগ)। এ চিকন রক্তনালী দিয়ে ঘন রক্ত প্রবেশ সহজ হয়না ফলে অঙ্গগুলোর শেষ প্রান্তে কোষের অক্সিজেন ও পুষ্টি( কোষের ৬টি পুষ্টি ১) এমাইনোএসিড ২) ফ্যাটিএসিড ৩) গ্লুকোজ ৪) ভিটামিনস ৫) মিনারেলস ৬) পানি) পৌছাতে পারেনা। এ অক্সিজেন ও পুষ্টি ছাড়া কোষ বাঁচেনা এর সল্পতায় দেহে অসংখ্য রোগ হবে এটিইতো স্বাভাবিক ঘঠনা।
দেহের এ সমস্যা সমাধানের জন্য রোগীরা যাচ্ছে অাধুনিক ডায়বেটিস রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে।একটু জেনে নেই তিনি কি কি সর্বনাশ করছেন ডায়বেটিস ড্রাগ প্রয়োগ করে।
ডায়বেটিস চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার ব্যবহৃত প্রধান ড্রাগগুলোর হচ্ছে; গ্লিকাজাইড, গ্লিমেপাইরাইড,মেটফরমিন ও ভিলডাগ্লিপটিন(গ্যালভাস)। এ নাম গুলো ড্রাগের মুল নাম (জেনেরিক নেইম)। পৃথিবীতে যত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী অাছে প্রত্যেকর নিজস্ব ব্র্যান্ডে এ ড্রাগগুলোর হাজার নামে বাজারে পাওয়া যায়। সংক্ষেপে এ ড্রাগগুলোর মুড অব একশন নিয়ে সামান্য অালোকপাত করব এটি বুঝার জন্য যে, এ ড্রাগগুলো ডায়বেটিস (গ্লুকোজ) নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে কি ভয়ংকর ভাবে দেহটাকে অারও বিপদাপন্ন করে তুলে।
গ্লিকাজাইড ও গ্লিমেপাইরাইড এ ড্রাগ দুটির একই কাজ। অর্থাৎ ড্রাগ দুটি প্যানক্রিয়াসের বিটাসেল (এটি ইন্স্যুলিন তৈরি করে) কে ইন্স্যুলিন নিঃসরনে ফোর্স করে। এ জোর করে ইন্স্যুলিন নিঃসরনে বাধ্য করার কারনে ধীরে ধীরে বিটাসেল দুর্বল হতে থাকে।
মেটফরমিন এ ড্রাগটি লিভারের সঞ্চিত গ্লুকোজ (গ্লাইকোজেন) কে ভাঙ্গতে বাঁধা দেয়। এছাড়া এ ড্রাগটি কোষের ইন্স্যুলিন ধরার (সেনসিটিভিটি) ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। পাকস্থলীতে খাদ্য থেকে তৈরিকৃত গ্লুকোজ রক্তে যেতে বাঁধা দেয়। ক্ষতিকারক দিক হলো দেহের প্রয়োজন মুহূর্তে লিভারে সঞ্চিত গ্লুকোজ না ভাঙ্গার কারনে সুগার লেভেল কমে দেহের বিপদ ঘটাতে পারে এবং লিভারের ক্ষতি বাড়তে পারে। ইন্সুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ার কারনে দেহের ইন্সুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে।
ভিলডাগ্লিপটিন (গ্যালভাস) এ ড্রাগটি প্যানক্রিয়াসের বিটাসেলের ইন্স্যুলিন নিঃসরনে ফোর্স করে এবং প্যানক্রিয়াসের অালফাসেলের গ্লুকাগন (ইন্সুলিন এর বিপরীতে কাজ করে) কে বাঁধা দেয় যাতে লিভারের সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিনত না হতে পারে।
এভাবে উপরিউক্ত ড্রাগগুলোর নানামুখী তৎপরতায় রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান নিয়ন্ত্রন রাখে। প্রশ্ন হচ্ছে কোষের জ্বালানি গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রন করে ডায়বেটিস এর চিকিৎসায় এ ড্রাগগুলো অসুস্থ্য দেহ কোষকে কিভাবে সুস্থ্য করে? একটু মনযোগ দিয়ে দেখলে বুঝবেন প্রতিটি ড্রাগ ধীরেধীরে অসুস্থ্য দেহ কোষকে অারও অসুস্থ্য করে তুলে। কারন রোগটি ছিল দুর্বল দেহ কোষের যা গ্লুকোজকে ঠিকমত কাজে লাগাতে পারছিলনা।
এবার সামান্য অালোচনা করব দেহে ইন্সুলিন ইনজেকশান এর কার্যকারীতা নিয়ে। ডায়বেটিস রোগীদের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ডায়বেটিস চিকিৎসায় এখন ইন্সুলিন ইনজেকশান খুবই নিরাপদ ও কার্যকরী চিকিৎসা। বিষয়টি যে কত ভুল তা একটু মনযোগ নিয়ে বুঝার চেষ্টা করুন।
প্রথম কথা হচ্ছে দেহের প্রয়োজনেই দেহের বিটাসেল দেহে ইন্সুলিন তৈরি করে। ইন্স্যুলিন হচ্ছে একটি প্রোটিন। এ প্রোটিনটি অর্থাৎ ইন্স্যুলিন এর প্রধান ৩ টি কাজ। প্রথম কাজ হচ্ছে রক্ত থেকে কোষের ভিতর গ্লুকোজ পরিবহন করা, দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে অতিরিক্ত অব্যবহৃত গ্লুকোজকে চর্বিতে পরিনত করে পেট এবং উরুতে জমা করা,তৃতীয় কাজ হচ্ছে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে লিভারে সঞ্চয় করা। এভাবে দেহের গ্লুকোজের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইন্সুলিন। এজন্য দেহে ইন্সুলিন উৎপাদন ঘাটতি হলে রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান বেড়ে যায়।
দেহের ইন্স্যুলিন এর ঘাটতি হলে বাইর থেকে ইন্সুলিন নিতে হবে এতে কোন দ্বিমত নাই। বিজ্ঞানের সাধারন জ্ঞানে যতটুকু জানি দেহে খুব তাড়াতাড়ি ইন্স্যুলিন ভান্ডার নিঃশেষ হয়না। বিটাসেলের ইন্স্যুলিন তৈরি ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১ হাজার বৎসর। প্রথমটি হচ্ছে বিটাকোষের ইন্সুলিন তৈরির ক্ষমতা অাছে কিন্তু তৈরি কম করছে বা একে বারেই করছেনা। অন্যটি হচ্ছে বিটাসেল ইন্স্যুলিন তৈরির ক্ষমতা একেবারই হারিয়ে ফেলেছে,এ ক্ষেত্রে বাইর থেকে ইন্স্যুলিন নিতে হবে। এটি নিশ্চিত না হয়ে যদি ইন্সুলিন নেয়া শুরু হয় তবে সক্রিয় বিটাকোষের ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে নষ্ট হতে পারে।
সুতরাং রক্তে বেশী গ্লুকোজ দেখা গেলেই ইন্সুলিন নিতে হবে এটি একেবারেই অযৌক্তিক।
এভাবে দীর্ঘ দিন ইন্স্যুলিন গ্রহনের কারনে দেহে ডায়বেটিস স্থায়ী নিবাস গাড়ে। বাইরের ইন্স্যুলিনও এক সময় এসে অকার্যকর হয় কারন ইন্সুলিন এর প্রধান কাজ হচ্ছে কোষের ভিতর গ্লুকোজ বহন করে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে কোষ অাবরনী। ইন্স্যুলিন ধরার জন্য কোষ অাবরনীতে একটি রিসেপ্টর (প্রোটিন) অাছে। এ প্রোটিন যদি ড্যামেজ থাকে তবে গ্লুকোজ বহনকারী ইন্সুলিন কোষের ভিতর ঢুকতে পারেনা। সুতরাং এটি পরিষ্কার দেহে ইন্সুলিন প্রতিরোধী হয়েও রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রনহীন হতে পারে।
উপরিউক্ত অালোচনায় এটি একেবারেই পরিষ্কার যে, মুখে খাওয়া ড্রাগ ও ইন্স্যুলিন ইনজেকশান করার মাধ্যমে ডায়বেটিস এর যে চিকিৎসা চলছে এটি রোগীদের দীর্ঘ মেয়াদি জটিল রোগের সূচনা করছে।
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়বেটিস থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। এ উপায়ে কিভাবে ডায়বেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব সে বিষয়ে সংক্ষিপ্ত অালোচনা করব।
উপরিউক্ত অালোচনা থেকে এটি অন্তত বুঝা গেল দেহ রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কেন থাকে। গ্লুকোজ কোষের খাবার। কোষ গ্লুকোজ খেতে পারছেনা,চর্বিতে পরিনত হতে পারছেনা বা লিভারে গ্লাইকোজেনে সঞ্চিত হতে পারছেনা।তাহলে গ্লুকোজ কোথায় যাবে? স্বাভাবিক নিয়মে রক্তেই ভেসে বেড়াবে। অবশ্যই রক্তে বেশী মাত্রায় গ্লুকোজ থাকা মোটেই উচিত নয়। এতে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে দেহের রক্ত চলাচল ব্যহত হয়। অার এখান থেকেই শুরু হয় নানা দেহ অঙ্গের অসুস্থ্যতা।
তাহলে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ যেটিকে ডায়বেটিস নামে ডাকা হচ্ছে সেই যীশুখ্রিষ্ট এর জন্মেরও ১৫০০ বছর অাগ থেকে। ডায়বেটিস একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ টু পাস থ্রু( to pass through)। মিলিটাস ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হানি বা মধু। এক কথায় ডায়বেটিস অর্থ হানি ইউরিন। অর্থাৎ মিষ্টিযুক্ত মুত্র। সাধারনত মুত্র দিয়ে গ্লুকোজ বেড় হয় না(খুব কম)। রক্তে বেশী মাত্রায় গ্লুকোজ থাকলে তার কিছুটা মুত্রের মাধ্যমে বেড় হয়।
ডায়বেটিস শব্দটিই বিশ্ব জুড়ে সর্বমহলে প্রচলিত শব্দ। ডায়বেটিস (রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ) এর প্রাকৃতিক চিকিৎসা সমাধান নিয়ে কথা বলব।
ডায়বেটিস সমস্যা হচ্ছে রক্তে পরিমানের চেয়ে বেশী গ্লুকোজ। অার এর কারনে দেহ অঙ্গে নানা উপসর্গ ও রোগ হয়। অার রোগী, ডাক্তার একে বলছেন ডায়বেটিস রোগী ও রোগ। অথচ একটি জায়গায় সমাধান দিতে পারলে বাকী অন্যান্য সব রোগের কিন্তু সমাধান হয়ে যায়। অার সেটি দীর্ঘ অালোচনা থেকে একেবারেই পরিষ্কার হয়েছে। সেটি হচ্ছে কোষের খাবার গ্লুকোজ কোষকে দিয়েই খাওয়াতে হবে প্রাকৃতিক ভাবে, জোর করে নয়।
কোষ যেহেতু গ্লুকোজ ছাড়া বাঁচেনা, সেহেতু কোষকে দিয়েই এর সমাধান করা সম্ভব। যদি কোষ গ্লুকোজ গ্রহনে একেবারেই অসমর্থ হয় তবে বুঝতে হবে এ দেহকে বাঁচিয়ে রাখার অার কোন সুযোগ নাই।
দেহ রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ অপসারনে নিন্মে উল্লেখিত পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাকৃতিক নিয়মেই গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে যাবে:
১) পরিমানের বেশী কার্বোহাইড্রেট (ভাত,রুটি,শাকশবজি,ফলমুল) খাওয়া বন্ধ করতে হবে। গবেষনায় জানা গেছে একজন পূর্ণবয়স্ক ৬৫/৭০ কেজি ওজন মানুষের ২৪ ঘন্টা গ্লুকোজ চাহিদা ১৮০ গ্রাম যা ৩০০ গ্রাম কার্ব খাবারের সমান। কারন যত বেশী খাবেন তত বেশী গ্লুকোজ তৈরি হবে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত ইন্সুলিন ব্যয় হবে। এতে বিটাসেলের উপর চাপ পড়ে। বিটাসেলের কার্যকারীতা কমার পেছনে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহন দায়ী।
২) টানা ২৪ ঘন্টা উপোষ করলে দেহের সব গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে যায়। গ্লুকোজ ব্যবহার হয়ে যাওয়ার কারনে প্রাকৃতিক ভাবেই ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে অাসে। উপরের নিয়ম মেনে পরিমান মত কার্ব গ্রহন করলে ডায়বেটিস ফিরে অাসবেনা।
৩) প্রোটিন ৩৫ গ্রাম ও ফ্যাট ৩৫ গ্রামের বেশী খাওয়া যাবেনা। সব এধরনের ভাজাপোড়া ও বেকারী খাবার বর্জন করতে হবে। প্রোটিন এর উৎস হিসাবে পশুর মাংশকে কম অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪) বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কিছু মেডিসিনাল সেলুলার ফুড খাবারেের তালিকায় যুক্ত করতে হবে।
৫) প্রতিদিন ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা ঘামঝরা এরোবিক ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করলে দেহের রক্ত চলাচল এর গতি বাড়ে। এতে দেহ কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। ব্যায়ামের কারনে দেহের তাপ বৃদ্ধি পায় এর ফলে ফ্রী রেডিক্যাল তৈরি হয়। এ ফ্রী রেডিক্যাল দেহকে জীবানু মুক্ত করে দেহকে ক্লীন রাখে।
কিভাবে ডায়বেটিস যাবে?
এ প্রক্রিয়ায় দেহ কোষ শক্তিশালী হবে ফলে কোষের গ্লুকোজ গ্রহন ক্ষমতা বেড়ে যাবে। রক্তে বেশী গ্লুকোজ জমা থাকবেনা।
দুর্বল, অসুস্থ্য ও বয়স্ক কোষগুলো দেহ থেকে বিদায় নিবে তদস্থলে তরুন ও সুস্থ্যসবল কোষের জন্ম হবে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোষের এ কৌশলটি অাবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানীরা নবেল পুরষ্কার পেয়েছিল।
অালোচনার উপসংহারে এটি বলা যায়, গ্লুকোজ দেহ কোষের খাবার(পুষ্টি)। গ্লুকোজ থেকে দেহ কোষ শক্তি তৈরি করে।এ শক্তি দেহের সকল কাজে ব্যবহার হয়। গ্লুকোজ থেকে শক্তি উৎপাদনের সময় দুটি বর্জ তৈরি হয়। পানি ও কার্বনডাইঅক্সাইড। পানি দেহে মিশে যায় ও অতিরিক্ত পানি মুত্র মারফত নিঃসরিত হয়। কার্বনডাইঅক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে প্রশ্বাসের সাথে দেহ বেরিয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার ব্যাতয় ঘটলে রক্তের গ্লুকোজ রক্তে থেকে যায়। রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। অার এ জন্য দেহে যে সমস্যা তৈরি সেটিই ডায়বেটিস। দেহ কোষে সঠিক প্রাকৃতিক খাদ্যপুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে অাসা সম্ভব। অাধুনিক ড্রাগ সাময়িক ব্যবস্থাপনা দিতে পারে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি জটিল শারীরিক সমস্যা তৈরি করে।
লেখাটি বারবার পড়ুন অামি নিশ্চিত অাপনি ডায়বেটিসে অাক্রান্ত হবেননা। যারা অাক্রান্ত হয়েছেন তারাও ডায়বেটিস থেকে মুক্ত থাকবেন। অাধুনিক ড্রাগ ব্যবহার করে কোন ভাবেই ডায়বেটিস সমস্যা থেকে বেড় হতে পারবেননা।


No comments:
Post a Comment
Thank You Very Much for commenting.